একটি ওয়েবসাইট কিভাবে কোম্পানিকে ব্রান্ড হিসেবে গড়ে তুলে ?

একটি ওয়েবসাইট কিভাবে কোম্পানিকে ব্রান্ড হিসেবে গড়ে তুলে সেটা জানতে হোলে আমাদের ব্রান্ড এবং কোম্পানি সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

ব্র্যান্ড কি?

ব্র্যান্ড হচ্ছে বিশ্বব্যাপী নিজের আলাদা একটা পরিচিতি। আমেরিকান মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ব্র্যান্ড বলতে এমন কোন নাম, শব্দ, ডিজাইন, প্রতীক বা অন্য কোন ফিচার বোঝায়, যা নিজের পণ্য, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে তার নির্ধারিত গ্রাহকের কাছে অন্য সবার থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করে। প্রতিটা ব্র্যান্ড তৈরি করার ক্ষেত্রে সবার আগে দরকার হয় তার নিজের সম্পূর্ণ ইউনিক নাম ও বৈশিষ্ট্য। ব্র্যান্ড গড়ার ক্ষেত্রে সবারই রয়েছে আলাদা উদ্দেশ্য, মিশন, ভিশন ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তার মূল্যবোধ। বর্তমানে মানুষ কোন কিছু খোঁজার জন্য ব্র্যান্ডের জিনিসকেই প্রাধন্য দেয়।

ওয়েবসাইট কি?

সহজ ভাসায় আমরা বলতে পারি, ওয়েবসাইট হোল ইন্টারনেটে প্রকাশিত সহজলভ্য অনেক গুলি ওয়েবপেজ এর একটি মিশ্রণ বা সমাহার। যার প্রতিটি ওয়েবপেজে কিছু তথ্য থাকে। আর একাধিক তথ্য সম্বলিত ওয়েবপেজের সমন্নয় গঠিত হয় একটি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট হচ্ছে কোনোকিছুর পরিচিতিটাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম।

কোম্পানিকে ব্র্যান্ড হিসাবে তৈরিতে ওয়েবসাইটের গুরুত্বঃ

বর্তমান বিশ্বে প্রতিটা ব্রান্ডেড কোম্পানির রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট যা তাদের সবার থেকে আলাদা ও ইউনিক করে তুলে। তাদের পরিচিতি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি ক্রেতা বা গ্রাহকের কাছে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে নিজেদের বস্থান ও গুনগত মান রক্ষা করা সবার আগে প্রয়োজন, কেউ যদি তা অর্জনে ব্যর্থ হয় তাহলে গ্রাহক তার কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সবাই অফলাইন বা সরাসরি প্রচারণার পাশাপাশি অনলাইনেও তাদের প্রচার শুরু করেছেন। আর এই অনলাইন প্রচারণার জন্য সবাই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), কনটেন্ট মার্কেটিং , সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং ও পেইড সোসাল এডভার্টাইজিং করে থাকে,যার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে তার ওয়েবসাইট ও কোম্পানির প্রোমোশন। বিশ্বের কিছু নামীদামী ব্র্যান্ড যেমনঃ মাইক্রোসফট, গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন, এপল সহ আরও অনেক বড় বড় কোম্পানি তাদের পরিচিত বা ব্রান্ডিং অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও প্রমোশনের জন্য তাদের ওয়েবসাইট ও তাদের ব্র্যান্ড আমাদের সকলের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। যার প্রধান মাধ্যম হলো তাদের ওয়েবসাইট।

বিষয়টাকে আরো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলছি, মনে করুন আপনি এপলের একটি মোবাইল বা ইলেক্ট্রিনিক্স ডিভাইস কিনবেন, সেই পণ্যটির বিস্তারিত, সুযোগ-সুবিধা, দাম ও অন্যান্য সকল তথ্য প্রথমে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়েই দেখবেন, দেখার পর আপনার ভালো লাগলে তারপর সে পণ্যটি আপনার পরিচিত দোকান বা নিকটস্থ কোন দোকান থেকে ক্রয় করার জন্য যাবেন। এপল তার পণ্যটির সঠিক তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়ার কারণে গ্রাহক পণ্যটির সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেয়েছে, আর এই ধারণা পাবার পরেই ক্রেতা সেই পণ্যটি নিচ্ছে। এপল তাদের ওয়েবসাইটটি ইউনিক ও সঠিকভাবে গ্রাহকের কাছে উপস্থাপন করার কারণেই গ্রাহক সেই সাইট ভিজিট করছে যা তাদের ভিজিটর ও পরিচিতির জন্য কাজে লাগছে। আর এই কাজটাই সকল ব্র্যান্ডের কোম্পানি করে থাকে। ব্র্যান্ডের সকল কোম্পানিই তাদের পণ্য অনলাইন ও অফলাইন মার্কেটপ্লেসে দিয়ে থাকে গ্রাহকের ও নিজেদের ব্র্যান্ডভ্যালু বাড়ানোর সুবিধার্থে। একটি ওয়েবসাইট কিভাবে কোম্পানিকে ব্রান্ড হিসেবে গড়ে তুলে? আসাকরি তার ধারণা পেয়ে গেছি।

নিজেই একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রয়োজন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখে নেওয়া। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখে ওয়েবসাইট তৈরি করা কঠিন কিছু নয়। নিজেকে একজন সফল ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাকে সাহায্য করবে বর্তমান সময়ের সেরা আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ইশিখন.কম। কারন ইশিখন.কম এ ক্লাস নিচ্ছেন দেশের স্বনামধন্য সব শীর্ষ সফল ফ্রিল্যান্সার ও আইটি উদ্যোক্তাগণ, যারা সুদীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে রাজত্ব করে আসছেন। যারা আপনাকে সম্পূর্ণ পথ নির্দেশনা প্রদান করবেন। এছাড়াও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বর্তমানে অনলাইনে আয়ের একটা সহজ ক্ষেত্র । যারা অনলাইনে চাকুরী বা পড়াশুনার পাশাপাশি ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে চান তাদের জন্য অনেক ভাল সুযোগ আছে এই সেক্টরে। শুধুমাত্র ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করে আপনে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে এটাকে ভাল পেশা হিসাবে নিতে পারবেন।

Leave a Reply