কৈশিক জালিকা : শুধুমাত্র একস্তর বিশিষ্ট এন্ডোথেলিয়ালে গঠিত খুবই সূক্ষ্ম রক্ত বাহিকা, যেখানে সহজে অক্সিজেন কোষে প্রবেশ করতে পারে, ও কোষ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড কৈশিক জালিকায় প্রবেশ করতে পারে।

মানবদেহে প্রধানত দু’ধরনের রক্তসংবহন চক্র রয়েছে। যথা:

 

সিস্টেমিক সংবহন চক্র: দেহ থেকে অক্সিজেন কম থাকা রক্ত হৃদপিণ্ডে আসে ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ হয়ে আবার দেহে রক্ত পৌছায়।

পালমোনারী সংবহন চক্র: হৃদপিণ্ড থেকে অক্সিজেন কম থাকা রক্ত ফুসফুসে নিয়ে অক্সিজেন সমৃদ্ধ করে আবার হৃদপিণ্ডে নিয়ে আসে (পরে তা হৃদপিণ্ড সিস্টেমিক সংবহনের মাধ্যমে সারা দেহে পাঠায়)।

পোর্টাল তন্ত্র: প্রধান দু’টো সংবহন চক্র ছাড়ায় রক্ত কিছুটা পার্শ্বপথ অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে শিরা হৃদপিণ্ডে না গিয়ে মাধ্যমিক অঙ্গে প্রবেশ করে সেখানে আবার কৈশিক জালিকায় বিভক্ত হয়ে আবার শিরা গঠন করে। এরপর রক্ত হৃদপিণ্ডে পৌছায়। প্রধানত দু’ধরনের পোর্টাল তন্ত্র রয়েছে:

হেপাটিক: যকৃতে ঘটে

রেনাল: বৃক্কে ঘটে

হৃদপিণ্ডের হৃদপেশীতে রক্ত সঞ্চালনকারী সংবহনকে করোনারী রক্ত সংবহন বলে।

রক্ত প্রবাহের সময় ধমনীর প্রাচীরে প্রবাহের দিকের সাথে লম্বভাবে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, একে রক্ত চাপ বলে।

সুস্থ প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষে সিস্টোলিক চাপ প্রায় ১২০ মিমি পারদ স্তম্ভের সমান। ডায়াস্টোলিক চাপ প্রায় ৮০ মিমি পারদ স্তম্ভ।

কোন ব্যক্তির রক্তচাপ সিস্টোলিক অবস্থায় ১৬০ মিমি পারদস্তম্ভ বা এর চেয়ে বেশি হয় এবং ডায়াস্টোলিক অবস্থায় ৯৫ মিমি পারদস্তম্ভের বা এর চেয়ে বেশি হয়, তবে এই অবস্থাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে।

কৈশিক জালিকার প্রাচীর ভেদ করে রক্তের কিছু উপাদান কোষের চারপাশে অবস্থান করে যাদের “কলারস” বলা হয়। কলারসে লোহিত কণিকা, অণুচক্রিকা, প্লাজমা প্রোটিন থাকে, সাধারণত শ্বেতকণিকা থাকে। এই কলারস কৈষিক জালিকা ছাড়াও আর এক ধরনের বদ্ধ নালী দ্বারা গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এই নালীগুলোকে লসিকা নালী বলে এবং বহনকারী স্বচ্ছ কলারসকে লসিকা বলে।

লসিকার আপেক্ষিক গুরুত্ব = ১.০১৫১ (রক্তের ক্ষেত্রে ১.০৬৫)

লসিকা নালীর ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে লসিকা গ্রন্থি যেটি বিভিন্ন জীবাণু ও ক্ষতিকর কোষের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে।

লসিকানালী হতে প্রতিদিন প্রায় ১২০০-২২৮০ মিমি লসিকা নির্গত হয়।

 

প্রতিটি লেকচারে নতুন নতুন লিখা যুক্ত হচ্ছে, তাই কাঙ্খিত কোন লিখা না পেলে দয়া করে কিছুদিন পর আবার ভিজিট করে দেখবেন।

লিখাতে কিংবা লেকচারে কোন ভুলত্রুটি থাকলে অথবা আপনার কাঙ্খিত লিখা খুঁজে না পেলেইশিখন.কম এর ফ্যানপেইজ অথবা নিচে কমেন্ট কর

Leave a Reply