সরকারি খরচে সম্পূর্ণ ফ্রী IT Training ও NSDA Certificate: ইশিখন ও ASSET প্রজেক্টে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড

ASSET Project eShikhon

বর্তমানে শুধু প্রথাগত পড়াশোনা দিয়ে চাকরির বাজারে টিকে থাকা কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই বাংলাদেশ সরকার ASSET Project-এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ইশিখন (eShikhon) এই প্রজেক্টের প্রশিক্ষণ পার্টনার হিসেবে আপনাদের দিচ্ছে সম্পূর্ণ ফ্রি আইটি ট্রেনিং এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা NSDA সার্টিফিকেট পাওয়ার সুযোগ। সরকারি খরচে কাজ শিখে নিজের ক্যারিয়ারকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার এটাই সেরা সময়। আজকের ব্লগে আমরা জানবো এই প্রজেক্টের সুবিধা, বৃত্তি এবং আবেদনের সব খুঁটিনাটি।

ASSET Project কী?

ASSET Project (Accelerate Skills for Employment and Training) হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের তরুণদের আধুনিক আইটি (IT) এবং ডিজিটাল স্কিল শিখিয়ে চাকরির বাজার বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য তৈরি করা। ইশিখন (eShikhon) এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হয়ে তরুণদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে কাজ করছে।

ASSET Project-এর মূল উদ্দেশ্য

  • স্কিল ডেভেলপমেন্ট: শুধু বই পড়ে নয়, বরং বর্তমানে চাকরির বাজারে যেসব কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সেই আইটি স্কিলগুলো হাতে-কলমে শেখানো।
  • কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিং: প্রশিক্ষণ শেষ করে শিক্ষার্থীরা যেন সরাসরি দেশি-বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি পেতে পারে বা অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা।
  • সরকারি স্বীকৃতি: কোর্স শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে NSDA সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যা আপনার যোগ্যতার একটি শক্তিশালী সরকারি প্রমাণ।
  • আর্থিক সহায়তা: শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং যাতায়াত খরচ মেটাতে কোর্স চলাকালীন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সরকারি বৃত্তি (Stipend) প্রদান করা হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

ASSET Project–এর আওতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিচের সুবিধাগুলো পাবেন:

১. সম্পূর্ণ ফ্রি কোর্স
৩ মাসের এই কোর্স সম্পূর্ণ ফ্রি, কোনো কোর্স ফি নেই।
অর্থাৎ আপনি নিজের খরচ ছাড়াই প্রয়োজনীয় IT স্কিল অর্জন করতে পারবেন।

২. NSDA সার্টিফিকেট
কোর্স শেষে আপনাকে দেওয়া হবে NSDA (National Skills Development Authority) সার্টিফিকেট, যা অনেক ক্ষেত্রে SSC/HSC সমমানের গুরুত্ব বহন করে এবং চাকরি বা প্রজেক্টে আপনার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।

৩. মাসিক ভাতা (Stipend)
প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫০০–২০০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হবে। মোট সুবিধা, যেমন যাতায়াত এবং প্রশিক্ষণ ম্যাটেরিয়ালসহ, প্রায় ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৪. ভবিষ্যতে ইনকাম ও ক্যারিয়ার সুযোগ

  • কোর্স শেষে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারবেন
  • চাইলে ভবিষ্যতে Instructor বা Mentor হিসেবেও কাজ করার সুযোগ পাবেন
  • নিজস্ব প্রজেক্ট বা ব্যবসায় স্কিল প্রয়োগ করার প্রস্তুতি নেবেন

NSDA কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

NSDA (National Skills Development Authority) হলো সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সহজ কথায়, এটি আমাদের দেশের কারিগরি ও আইটি শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করে। আপনি যে কাজ শিখছেন, তা আন্তর্জাতিক মানের কি না এবং আপনি কাজ কতটুকু দক্ষভাবে করতে পারেন, তা যাচাই করার দায়িত্ব হলো এই NSDA-র।

NSDA মূলত কী কী কাজ করে?

  • স্কিল বা দক্ষতার মান নির্ধারণ: যেকোনো আইটি বা কারিগরি কোর্সের মান কেমন হবে এবং সেখান থেকে আপনি কী কী শিখবেন, তা NSDA ঠিক করে দেয়।
  • ট্রেনিং ও কোর্সের মান যাচাই: আপনি যে প্রতিষ্ঠান থেকে শিখছেন (যেমন: ইশিখন), সেই প্রতিষ্ঠানের ট্রেইনার এবং কারিকুলাম সঠিক মানের কি না, তা তারা নিশ্চিত করে।
  • দক্ষতা মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেট: কোর্স শেষে একটি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার (Assessment) মাধ্যমে আপনার দক্ষতা যাচাই করা হয় এবং উত্তীর্ণ হলে আপনাকে সরকারিভাবে লেভেল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

কেন আপনার জন্য NSDA সার্টিফিকেট জরুরি?

  • সরকারি ও জাতীয় স্বীকৃতি: এটি কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট নয়, বরং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি। এই সার্টিফিকেট থাকা মানে আপনি একজন সার্টিফাইড আইটি প্রফেশনাল।
  • ট্রেইনার বা ইনস্ট্রাক্টর হওয়ার সুযোগ: আপনি যদি ভবিষ্যতে নিজে কাউকে কোনো কাজ শেখাতে চান বা কোনো বড় প্রতিষ্ঠানে ট্রেইনার হতে চান, তবে এই সার্টিফিকেট আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।
  • অনেক প্রতিষ্ঠানে এটি বাধ্যতামূলক: বর্তমানে অনেক সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ট্রেনিং সেন্টারে ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে যোগ দিতে হলে NSDA সার্টিফিকেট থাকা আবশ্যক। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন মানুষের অনেক বছরের অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু শুধুমাত্র NSDA সার্টিফিকেট না থাকার কারণে তিনি সরকারি কোনো প্রজেক্টে ট্রেইনার হতে পারছেন না। তাই ক্যারিয়ারের পূর্ণতা পেতে এই সার্টিফিকেটের বিকল্প নেই।
  • সিভির মান বৃদ্ধি: আপনার সিভিতে যখন একটি সরকারি এনএসডিএ সার্টিফিকেট থাকবে, তখন দেশের ভেতর বা বাইরের যেকোনো জবে আপনার প্রোফাইল অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। বড় বড় কোম্পানিতে এখন এই সার্টিফিকেটধারী ক্যান্ডিডেটদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ASSET প্রজেক্টের অধীনে ইশিখনে কোন কোন কোর্স করা যাবে?

ASSET Project-এর অধীনে ইশিখন (eShikhon) বর্তমানে ৫টি আধুনিক ও ডিমান্ডিং কোর্স করার সুযোগ দিচ্ছে। কোর্সগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন একজন শিক্ষার্থী লেভেল অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন করতে পারে। বর্তমানে যে কোর্সগুলো চালু আছে:

  • Digital Marketing for Freelancing (Level-3): বর্তমান যুগে ব্যবসা বাড়াতে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিকল্প নেই। এই কোর্সে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে অনলাইন মার্কেটিংয়ের সব খুঁটিনাটি শিখবেন।
  • Graphic Design (Level-3): এটি একটি বেসিক টু অ্যাডভান্স লেভেলের কোর্স। লোগো ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইনের কাজ শিখে আপনি অনলাইন মার্কেটে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।
  • Web Design for Freelancing (Level-3): কোডিংয়ের মাধ্যমে আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট তৈরি করার সব কৌশল এই কোর্সে শেখানো হয়। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এই কাজের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে।
  • Python (Level-4): যারা প্রোগ্রামিং ভালোবাসেন এবং সফটওয়্যার বা ডেটা সায়েন্স নিয়ে কাজ করতে চান, তাদের জন্য এই অ্যাডভান্স লেভেলের পাইথন কোর্সটি সেরা পছন্দ হতে পারে।
  • Android Application Development (Level-4): বর্তমানে মোবাইল অ্যাপের বিশাল বাজার। এই কোর্সে আপনি প্রফেশনাল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করা শিখবেন, যা আপনাকে বড় বড় আইটি ফার্মে জায়গা করে নিতে সাহায্য করবে।

প্রশিক্ষণ পদ্ধতি: কীভাবে কোর্স করানো হয়?

ইশিখনে ASSET Project-এর অধীনে শেখানোর পদ্ধতিটি একদম আধুনিক এবং Practical. একজন শিক্ষার্থী যাতে শুধু কোর্স শেষ না করে বরং কাজটিতে দক্ষ হয়ে ওঠে, সেভাবেই পুরো কারিকুলাম সাজানো হয়েছে:

  • লাইভ ক্লাস ও সেশন: এখানে সপ্তাহে ৪–৫ দিন ক্লাস করার সুযোগ থাকে। প্রতিটি ক্লাস এমনভাবে নেওয়া হয় যেন শিক্ষার্থীরা ট্রেইনারের সাথে সরাসরি কথা বলে সব বুঝে নিতে পারে।
  • হাতে-কলমে শেখানো (Practical Task): শুধু থিওরি বা বই পড়ে নয়, এখানে প্রতিটি বিষয় কম্পিউটারে হাতে-কলমে করে দেখানো হয়। এতে কাজ শেখাটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
  • অ্যাসাইনমেন্ট ও রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট: প্রতিটি টপিক শেষ হলে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট কাজ বা অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়। এছাড়া কোর্সের শেষে বাস্তব প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ থাকে, যা আপনার কাজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • NSDA মান অনুযায়ী মূল্যায়ন: পুরো কোর্সটি এমনভাবে পরিচালনা করা হয় যেন শিক্ষার্থীরা শেষে NSDA-এর ফাইনাল টেস্ট বা অ্যাসেসমেন্টের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে।
  • ব্যক্তিগত গাইডেন্স ও সাপোর্ট: ক্লাসের বাইরেও কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে ট্রেইনারদের থেকে সরাসরি ফিডব্যাক এবং গাইডেন্স পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এই গোছানো পদ্ধতির কারণেই শিক্ষার্থীরা কোর্স শেষ করে কাজ করার মতো আত্মবিশ্বাস পায় এবং যেকোনো ইন্টারভিউ বা ফ্রিল্যান্সিং কাজে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

সরকারি এই ট্রেনিং প্রজেক্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। আপনি যদি নিচের শর্তগুলো পূরণ করেন, তবে আপনিও এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন:

  • বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। মূলত তরুণ ও কর্মক্ষম জনবল তৈরি করতেই এই বয়সের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
  • কম্পিউটার জ্ঞান: যেহেতু এটি আইটি (IT) বিষয়ক ট্রেনিং, তাই আপনার কম্পিউটার চালানো সম্পর্কে অন্তত বেসিক ধারণা থাকতে হবে। যেমন – কম্পিউটার অন/অফ করা এবং টাইপিং সম্পর্কে সাধারণ ধারণা।
  • কোর্স সম্পর্কে ধারণা: আপনি যে কোর্সটি বেছে নেবেন (যেমন: গ্রাফিক ডিজাইন বা ডিজিটাল মার্কেটিং), সেই বিষয়ে আগে থেকে একটু ধারণা থাকলে আপনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। এটি আপনার জন্য ট্রেনিংয়ের সময় কাজ শিখতে অনেক সহজ করে দেবে।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাধারণত কোর্স ভেদে এসএসসি বা এইচএসসি পাস হতে হয় (আবেদন করার সময় নির্দিষ্ট কোর্সের রিকোয়ারমেন্ট দেখে নেওয়া ভালো)

📌 ইশিখনের ট্রেনিং কাঠামো ও শর্তাবলী: আবেদন করার আগে যা জানা জরুরি

ইশিখনে ASSET প্রজেক্টের অধীনে এই আইটি ট্রেনিংটি সাধারণ আর দশটা কোর্সের মতো নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক এবং ক্যারিয়ার-মুখী প্রোগ্রাম। আপনি যদি সত্যিই দক্ষ হয়ে চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে নামতে চান, তবেই এই প্রোগ্রামটি আপনার জন্য।

আবেদন করার আগে আপনাকে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝে নিতে হবে। কারণ এখানে আপনাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস এবং প্র্যাকটিসে অনেক বেশি সময় দিতে হবে। আপনি যদি শুরুতেই এই নিয়মগুলো এবং সময়সূচি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন, তবে আপনার পরবর্তী পথ চলা অনেক সহজ হবে।

ভর্তি হওয়ার পর যেন কোনো বিভ্রান্তি বা সমস্যা না হয়, তাই আমরা নিচে ইশিখনের ক্লাসের সময়, আবেদনের নিয়ম এবং বাছাই প্রক্রিয়াগুলো সহজভাবে তুলে ধরলাম। এগুলো দেখে নিলে আপনি সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে আপনি এই জার্নির জন্য কতটুকু প্রস্তুত।

কোর্সের সময়সূচি ও ব্যাচ টাইম

এই ট্রেনিংটি হবে বেশ নিবিড় বা বুটক্যাম্প স্টাইলে, যেখানে আপনাকে নিয়মিত সময় দিতে হবে:

  • মোট সময়: ৩ মাস (৯০ দিন)।
  • ক্লাসের সংখ্যা: প্রায় ৪৩টি ক্লাস।
  • সাপ্তাহিক রুটিন: সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস করতে হবে।
  • Offline Course, ইশিখন ক্যাম্পাসে এসে সশরীরে ক্লাস করতে হবে।
  • ব্যাচ টাইম: প্রতিদিন কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা ক্লাস হবে। দুটি শিফট আছে:
    • সকাল: ৮:০০ টা – দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত।
    • দুপুর: ১২:০০ টা – বিকেল ৪:০০ টা পর্যন্ত।

বিশেষ নোট: ক্লাসের পাশাপাশি আপনাকে নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে হবে, কারণ এটি একটি বুটক্যাম্প স্টাইল ট্রেনিং।

গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী

প্রজেক্টে সফল হতে হলে আপনাকে নিচের শর্তগুলো মেনে চলতে হবে:

  • পুরো ৩ মাস আপনাকে এই কোর্সে ডেডিকেটেড থাকতে হবে।
  • এই ৩ মাস চলাকালীন আপনি অন্য কোনো কাজ বা ফুল-টাইম জব করতে পারবেন না।
  • কোর্স শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষায় পাস করলেই কেবল আপনি সরকারি ভাতা বা স্টাইপেন্ড পাবেন।

আবেদন ও সিলেকশন প্রক্রিয়া

আবেদন করার পর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে:

  1. এই ফর্মটি ( https://forms.gle/SdV2MtHv5tZbhNmP6 ) পূরণ করার মাধ্যমে আপনি রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
  2. প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আপনাকে অফিসে ডাকা হবে।
  3. আপনার সাধারণ কম্পিউটার জ্ঞান ও Selected কোর্সের বেসিকের ওপর একটি MCQ পরীক্ষা এবং ছোট একটি ইন্টারভিউ (Viva) নেওয়া হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ভর্তির জন্য আপনার এসএসসি/এইচএসসি বা অনার্সের সার্টিফিকেট/মার্কশিট, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।

বিকল্প ব্যবস্থা: আপনার নিজের ডকুমেন্ট না থাকলে বাবা, মা, ভাই, বোন বা জীবনসঙ্গীর ডকুমেন্ট দেওয়া যাবে। তবে সেই ব্যক্তিকে সশরীরে অফিসে এসে স্বাক্ষর করে যেতে হবে।

সর্বশেষ আপডেট: ১ মার্চ থেকে নতুন ব্যাচ!

আপনি যদি আবেদন করতে চান, তবে নিচের তথ্যগুলো মাথায় রাখুন:

  • ডিজিটাল মার্কেটিং: এই কোর্সটি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
  • অন্যান্য কোর্স: গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব, পাইথন এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের ব্যাচ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে।
  • সীমিত আসন: প্রতি ব্যাচে মাত্র ২৪ জন নেওয়া হবে।

আগে আসলে আগে পাবেন: আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় যারা আগে আবেদন করবেন এবং পরীক্ষায় টিকবেন, তারাই সুযোগ পাবেন।

কোর্স শেষে আপনার জন্য কী কী সুযোগ থাকছে?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, “কোর্স তো শেষ করলাম, এরপর কী?” ASSET Project-এর অধীনে ইশিখনে কোর্স করার পর আপনার সামনে আয়ের অনেকগুলো বাস্তব পথ খুলে যাবে:

  • এন্ট্রি-লেভেল আইটি জব: আপনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আইটি ফার্মে জুনিয়র বা এন্ট্রি-লেভেল পজিশনে চাকরির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবেন।
  • ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার: আপনি যদি ঘরে বসে কাজ করতে চান, তবে আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো মার্কেটপ্লেসে নিজের দক্ষতা দিয়ে আয় শুরু করতে পারবেন।
  • নিজস্ব ব্যবসা বা স্টার্টআপ: আপনি যা শিখবেন, তা ব্যবহার করে নিজেই ছোট কোনো এজেন্সি বা আইটি সার্ভিস ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।
  • দক্ষতা ভিত্তিক আয়: শুধু চাকরি নয়, ছোট ছোট প্রজেক্ট বা লোকাল ক্লায়েন্টের কাজ করে স্বতন্ত্রভাবে আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ইশিখন (eShikhon)-এর ভূমিকা

ইশিখন এই প্রজেক্টের নির্বাচিত পার্টনার হিসেবে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে:

  • লাইভ ক্লাস: সরাসরি অভিজ্ঞ মেন্টরদের সাথে ক্লাস করার সুযোগ, যেখানে যেকোনো প্রশ্ন করে সাথে সাথে সমাধান পাওয়া যায়।
  • প্র্যাকটিক্যাল প্রজেক্ট: প্রতিটি কোর্সে বাস্তব জীবনের কাজের অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য প্রজেক্ট ভিত্তিক ট্রেনিং দেওয়া হয়।
  • পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার সাপোর্ট: সিভি (CV) তৈরি থেকে শুরু করে ইন্টারভিউ টিপস এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রথম কাজ পাওয়ার সব গাইডলাইন এখান থেকেই পাবেন।
  • জব প্লেসমেন্ট সহায়তা: যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরাসরি জবের সুযোগ বা বিভিন্ন কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপের সুপারিশ করা হয়।

আজই শুরু হোক আপনার নতুন পথচলা

সবশেষে বলা যায়, সরকারি খরচে এমন আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং আর NSDA সার্টিফিকেটের সুযোগ বারবার আসে না। ইশিখন এবং ASSET Project-এর এই আয়োজন মূলত আপনাদের মতো পরিশ্রমী তরুণদের জন্যই, যারা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে চান।

মনে রাখবেন, আজকের দিনে কেবল ডিগ্রি আপনাকে চাকরি এনে দেবে না, বরং আপনার কাজের দক্ষতাই আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে। আপনি যদি আগামী ৩ মাস নিয়মিত পরিশ্রম করতে রাজি থাকেন, তবে এই একটি কোর্সই আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আসন সংখ্যা খুবই সীমিত, তাই সময় নষ্ট না করে আজই আপনার পছন্দের কোর্সে আবেদন করুন। নিজের দক্ষতা বাড়ান, সরকারি স্বীকৃতি নিন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্যারিয়ার শুরু করুন। আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অনেক শুভকামনা!

Frequently Asked Questions

Q1: একজন শিক্ষার্থী একাধিক কোর্স করতে পারবে কি?

A: হ্যাঁ, কেউ চাইলে একাধিক কোর্স করতে পারে। তবে প্রতিটি কোর্সের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও কমিটমেন্ট রাখতে হবে। এক কোর্স চলাকালীন অন্য কোর্সের ক্লাস করার সুযোগ নেই।

Q2: কোর্স শেষে যদি পাশ না করি, কি হবে?

A: কোর্স শেষ হওয়ার পর যদি প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন/ফাইনাল টেস্টে পাশ না হয়, তাহলে মাসিক ভাতা বা অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে শিক্ষার্থী চাইলে পুনরায় (reassessment) অংশগ্রহণ করতে পারবেন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী।

Q3: Re-assessment বা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে কি?

A: হ্যাঁ, যারা প্রথমবারে পাশ করতে পারেনি, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে re-assessment এর সুযোগ থাকে, যাতে তারা কোর্স সম্পন্ন করতে পারে।

Q5: NSDA সার্টিফিকেট কিভাবে পাবো?

A: কোর্স সফলভাবে শেষ করলে শিক্ষার্থীকে NSDA (National Skills Development Authority) স্বীকৃত সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এটি সরাসরি কোর্সের প্রশিক্ষক বা ইশিখন অফিস থেকে পাওয়া যায়। সার্টিফিকেট Government approved এবং চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং বা Instructor হিসেবে কাজ করার জন্য গ্রহণযোগ্য।

Q6: কি কি প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে চলতে হবে সার্টিফিকেট বা সুবিধা পেতে?

A:
১। পুরো কোর্সের সময় (৩ মাস) ডেডিকেটেড থাকতে হবে.
২। নিয়মিত ক্লাস ও প্র্যাকটিসে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক
৩। সমস্ত মূল্যায়ন/ফাইনাল টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে

Q7: যদি কিছু কারণে ব্যর্থ হই বা ক্লাস মিস করি, কি হবে?

A: ব্যর্থ হলে পুনরায় পরীক্ষা (re-assessment) নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ক্লাস মিস করলে পরবর্তী ব্যাচ বা অতিরিক্ত সেশন মাধ্যমে কমিটমেন্ট পূরণ করতে হবে, কারণ পুরো কোর্সের প্র্যাকটিস ও ক্লাস অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।